ঘাড় ও বাহুর সংযোগস্থলে অসহ্য ব্যথায় করণীয়

ইন্টু : (ফ্রোজেন শোল্ডারের চিকিৎসা দীর্ঘমেয়াদী। সারতে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে। কাজেই ধৈর্য ধরে ব্যায়াম ও চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হবে তাছাড়া করোনাকালেও একটু বাড়তি সতর্ক থাকতে হবে।) ফ্রোজেন শোল্ডারের চিকিৎসা কী ঘাড় ও বাহুর সংযোগস্থলে কাঁধের সন্ধি বা শোল্ডার জয়েন্টের ব্যথা একটি পরিচিত সমস্যা। নানা কারণে এই জায়গায় ব্যথা হতে পারে। যেমন আঘাত, লিগামেন্ট ইনজুরি বা ছিঁড়ে যাওয়া, সংক্রমণ, টিউমার, হাড়ক্ষয় ইত্যাদি। এছাড়া অন্য রোগের কারণে সৃষ্ট ব্যথাও মাঝেমধ্যে কাঁধে অনুভূত হয়। এর মধ্যে হৃদরোগের কারণে ব্যথা, ঘাড়ের ব্যথা অন্যতম। তবে শোল্ডার জয়েন্টের ব্যথার প্রধানতম কারণ হলো ফ্রোজেন শোল্ডার। এতে কাঁধ ব্যথার সঙ্গে কাঁধের সন্ধি জ্যাম হয়ে গেছে বলে অনুভূত হয় বা কাঁধ নাড়াতে কষ্ট হয়। কাদের এবং কেন হয়? সাধারণত ৪০-৬০ বছর বয়সী মানুষের ফ্রোজেন শোল্ডার হওয়ার ঝুঁকি বেশি। ডায়াবেটিস রোগীদের এ সমস্যা হওয়ার ঝুঁকি অপেক্ষাকৃত বেশি। এ ছাড়া স্থূলতা, অতিরিক্ত চর্বি বা হাইপারলিপিডেমিয়া, হৃদ্রোগ, স্ট্রোকের রোগীদের এটি বেশি হতে দেখা যায়। দীর্ঘদিন কোন কারণে কাঁধ নড়াচড়া বন্ধ থাকলে বা আঘাতের কারণেও এটি হতে পারে। প্রথমে ব্যথা দিয়ে শুরু হলেও ধীরে ধীরে কাঁধের সন্ধির নড়াচড়া সীমিত হতে থাকে। সন্ধির ভেতরকার সাইনোভিয়াল ফ্লুইড বা তরল পদার্থ কমে গেলে ওপরকার সাইনোভিয়াল ক্যাপসুল বা আবরণ সঙ্কুচিত হতে থাকে। ধীরে ধীরে পেশিগুলোও শক্ত হয়ে যায়। ফলে সন্ধি নড়াচড়া করায় সমস্যা দেখা দেয়। রোগীর ইতিহাস শুনে আর শারীরিক পরীক্ষা করে ফ্রোজেন শোল্ডার শনাক্ত করা হয়। তবে ঝুঁকি নির্ণয় ও অন্যান্য রোগ সম্পর্কে জানতে কিছু পরীক্ষা করা দরকার হতে পারে। করণীয় : ব্যথা বেশি হলে চিকিৎসকের পরামর্শে ব্যথানাশক গ্রহণ করতে হবে। ডায়াবেটিস থাকলে তা নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। ওজন বেশি থাকলে কমাতে হবে। ফিজিউথেরাপির গুরুত্বারোপ ফিজিওথেরাপি ও ব্যায়াম খুবই কার্যকর চিকিৎসা। প্রয়োজনে ফিজিওথেরাপি নিতে হবে। চিকিৎসক প্রয়োজন মনে করলে সুগার নিয়ন্ত্রণে এনে জয়েন্টে স্টেরয়েড ইনজেকশন দিতে পারেন। সন্ধির নড়াচড়া একেবারে বন্ধ হয়ে গেলে অনেক সময় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক জেনারেল এ্যানেসথেশিয়া দিয়ে নড়াচড়া করিয়ে থাকেন। চিকিৎসা : ফ্রোজেন শোল্ডারের চিকিৎসা দীর্ঘমেয়াদী। সারতে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে। কাজেই ধৈর্য ধরে ব্যায়াম ও চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হবে। করোনাকালে সুস্থ ও ভাল থাকুন। লেখক ও পরামর্শক : অধ্যাপক ডাঃ নজরুল ইসলাম, বিভাগীয় প্রধান, অর্থোপেডিক বিভাগ, হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল। অধ্যাপক ডাঃ নজরুল ইসলাম (অর্থোপেডিক ও ট্রমা সার্জন বিশেষজ্ঞ) চেস্বার : পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার লি. ইউনিট-২, ১৫, শান্তিনগর, চৌরাস্তা, ঢাকা। ০১৭২৯-৫১০-৬৯৬

Click to Chat
  • Call us: 01775451222
  • Scroll to Top